আউটসোর্সিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রম বা সেবা প্রদানকারী কাজগুলো বাইরের প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।
আউটসোর্সিং বেতন নীতিমালা ২০২৫ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই গাইডটি পড়ুন। এখানে Freelancing Salary Policy, আউটসোর্সিং ইনকাম সিস্টেম, Fiverr ও Upwork এর পেমেন্ট পদ্ধতি এবং অনলাইনে কাজ করে কত আয় করা যায় সে সম্পর্কে সহজভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকটের কারণে থার্ড পার্টি বা জনবল সরবরাহকারী কোম্পানির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়।
আউটসোর্সিং চাকরির বৈশিষ্ট্য:
অস্থায়ী চাকরি:
আউটসোর্সিং চাকরি সাধারণত অস্থায়ী ভিত্তিতে হয় এবং যে কোনো সময় কর্তৃপক্ষ চাকরি প্রত্যাহার বা কর্মীকে অপসারণ করতে পারেন।
চাকরি স্থায়ীকরণের সুযোগ নেই:
আউটসোর্সিং কর্মীরা সাধারণত চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য আবেদন করতে পারেন না, কারণ তাদের নিয়োগ অস্থায়ী ভিত্তিতে হয়।
আউটসোর্সিং বেতন কাঠামো:
২০১৯ সালের ১০ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় আউটসোর্সিং সেবা মূল্য নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করে। এই পরিপত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ:
সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান:
সরকারি নথি অনুযায়ী মাসিক বেতন ১৭,৯১০ টাকা।
লিফটম্যান:
সরকারি নথি অনুযায়ী মাসিক বেতন ১৭,৬১০ টাকা।
তবে বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে এই বেতনের পুরো অংশ কর্মীরা পান না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কমিশন বা ফি কেটে নেওয়ার ফলে কর্মীরা কম বেতন পান। উদাহরণস্বরূপ, একজন সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান ১৭,৯১০ টাকার স্থলে ১৪,০০০ টাকা পান, বাকি ৩,৯১০ টাকা ঠিকাদারের পকেটে যায়।
চাকরির মেয়াদ ও নীতিমালা:
আউটসোর্সিং চাকরি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হতে পারে। কর্তৃপক্ষ চাইলে যে কোনো সময় এই চাকরি প্রত্যাহার বা কর্মীকে অপসারণ করতে পারেন। আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের কোনো নিয়ম বা নীতিমালা নেই। citeturn0search0
চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের প্রস্তাবনা:
আউটসোর্সিং কর্মীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন, যেমন:
- বেতন বৈষম্য: সরকারি নথিতে নির্ধারিত বেতন ও বাস্তব বেতনের মধ্যে পার্থক্য।
- চাকরির নিরাপত্তা: অস্থায়ী চাকরি হওয়ায় কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা কম।
- সুবিধার অভাব: অনেক ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং কর্মীরা সরকারি কর্মীদের মতো সুবিধা পান না
এই সমস্যাগুলোর সমাধানে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:
- বেতন পরিশোধের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং কর্মীদের নির্ধারিত বেতন নিশ্চিত করা।
- চাকরির মেয়াদ নির্ধারণ: আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি প্রণয়ন করা, যাতে তারা চাকরির নিরাপত্তা পান।
- সুবিধা প্রদান: আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য ন্যূনতম সুবিধা, যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ইত্যাদি নিশ্চিত করা।
সর্বোপরি, আউটসোর্সিং কর্মীদের অধিকার ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
0 Comments